Ads
A B C D E F G H I J K L M N O P Q R S T U V W X Y Z

Recently Lyrics Updated

সুশান্ত পাল


লেখাটি যিনি পাঠিয়েছেন: Asasuz Zaman



সুশান্ত পালের ( সম্মিলিত জাতীয় মেধা তালিকায় ১ম,৩০তম বিসিএস) এই লেখাটি আপনার জীবনকে বদলে দেবে।।-২৭ বছর বয়সে যখন হন্যে হয়ে ব্যাংকে চাকরি খুঁজছেন,তখন আপনারই বয়েসি কেউ একজন সেইব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন।আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি,তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েইচলে যাচ্ছে। কর্পোরেট যে সব সময় চেহারা দেখে প্রমোশন দেয়,তা নয়।দিনবদলাচ্ছে,কনসেপ্টগুলো বদলে যাচ্ছে।শুধুবেতন পাওয়ার জন্য কাজ করে গেলে শুধুবেতনই পাবেন।কথাহল,কেন এমন হয়?সবচাইতে ভালটি সব চাইতে ভালভাবে করে কীভাবে?কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দু-একটি বলছি।-প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা। যারা আপনার চাইতে এগিয়ে,তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী।এটা মেনে নিন। ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না।তা-ই যদি হত,তবে গাধা হত বনের রাজা।শুধু পরিশ্রম করা নয়,এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা।অনলি ইওর রেজাল্টস্ আর রিওয়ার্ডেড,নট ইওরএফর্টস্।আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রামাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে?সবার দিনই তো২৪ ঘণ্টায়।আমার বন্ধুকে দেখেছি,অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সে রাত জেগে আউটসোর্সিংকরে।ও রাত জাগার সুবিধা তো পাবেই!আপনি বাড়তিকী করলেন,সেটাই ঠিক করে দেবে,আপনি বাড়তি কী পাবেন।আপনি ভিন্ন কিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্ন কিছু পাবেন না।বিল গেটস রাতারাতি বিলগেটস হননি।শুধু ভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জব সকিং বা জুকারবার্গ হওয়া যায় না।আমার মত অনার্সে ২.৭৪ সিজিপিএ পেলেই বিসিএস আর আইবিএ ভর্তি পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে যাওয়া যাবে না। আউটলায়ার্স বইটি পড়ে দেখুন।বড় মানুষের বড় প্রস্তুতি থাকে।নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন,উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন।শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হয় না।কিংবা স্কুল কলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না।সবাই তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল ফ্যারাডে হতেপারে না,বেশিরভাগই তো সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।-স্টুডেন্টলাইফে কে কী বলল,সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।আমাদের ব্যাচে যে ছেলেটা প্রোগ্রামিং করতেই পারত না,সে এখন একটা সফটওয়্যার ফার্মের মালিক।যাকে নিয়ে কেউকোনদিন স্বপ্ন দেখেনি,সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ক্যারিয়ার নিয়ে যার তেমন কোন ভাবনা ছিল না,সে সবার আগেপিএইচডি করতে আমেরিকায় গেছে।সব পরীক্ষায় মহাউত্সাহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন,কী পারেন না,এটা অন্য কাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না।পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে? সবাই বলছে,আপনার লাইফটা শেষ?আমি বলি,আরে!আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি।আপনি কতদূর যাবেন,এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে?লাইফটা কি ওদের নাকি?আপনাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন?কিংবা ডাক্তারি পাস করেকেন ডাক্তারিই করতে হবে?আমার পরিচিত এক ডাক্তার ফটোগ্রাফি করে মাসে আয় করে ৬-৭ লাখটাকা।যেখানেই পড়াশোনা করেন না কেন,আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। শুধু'ওহ শিট','সরি বেবি','চ্যাটিং ডেটিং' দিয়ে জীবন চলবে না।আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট,তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন।যে গাড়িটা করে ভার্সিটিতে আসেন,ঘোরাঘুরিকরেন,সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা?ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে?-একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে।তখন আপনাকে যা যা করতে হবে,সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন। জীবনে বড় হতে হলে কিছুভাল বই পড়তে হয়,কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়,কিছু ভাল মিউজিক শুনতে হয়,কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়,কিছু ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়,কিছু ভাল কাজ করতেহয়। জীবনটা শুধু হাহাহিহি করে কাটিয়ে দেয়ার জন্যনয়।একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে,তখন দেখবেন,পায়ের নিচ থেকে মাটিসরে যাচ্ছে,মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়।এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না।"আপনার মত করে লিখতে হলে আমাকে কী করতে হবে?আমি আপনার মত রেজাল্ট করতে চাই। আমাকে কী করতেহবে?"এটা আমি প্রায়ই শুনি।আমি বলি,"অসম্ভব পরিশ্রম করতে হবে।নো শর্টকাটস্।সরি!"রিপ্লাই আসে,"কিন্তু পড়তে যে ভাল লাগে না।কী করা যায়?"এর উত্তরটা একটু ভিন্নভাবে দিই।আপনি যখন স্কুল কলেজে পড়তেন,তখন যেসময়ে আপনার ফার্স্ট বয় বন্ধুটি পড়ার টেবিলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকত,সে সময়ে আপনি গার্লস স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন।এখন সময় এসেছে,ও ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর আপনি পড়ার টেবিলে বসে থাকবেন।-


জীবনটাকে যে সময়ে চাবুক মারতে হয়,সেসময়ে জীবনটাকে উপভোগ করলে,যেসময়ে জীবনটাকে উপভোগ করার কথা,সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেননা,এটাই স্বাভাবিক।




এটা মেনে নিন। মেনে নিতে নাপারলে ঘুরে দাঁড়ান।এখনই সময়! বড় হতে হলে বড়মানুষের সাথে মিশতে হয়,চলতে হয়,ওদের কথা শুনতে হয়। এক্ষেত্রে ভার্সিটিতে পড়ার সময় বন্ধু নির্বাচনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সাবকনশাস মাইন্ড আপনাকে আপনার বন্ধুদের কাজ দ্বারা প্রভাবিতকরে। আমরা নিজেদের অজ্ঞাতসারেই আমাদের চাইতে ইনফেরিয়র লোকজনের সাথে ওঠা বসা করি,কারণ তখন আমরা নিজেদেরকে সুপিরিয়র ভাবতে পারি।এ ব্যাপারটা সুইসাইডাল।আশেপাশে কাউকেই বড় হতে না দেখলে বড়হওয়ার ইচ্ছে জাগে না।আরেকটা ভুল অনেকে করেন।সেটি হল,ধনীঘরের সন্তানদের সাথে মিশেনিজেকে ধনী ভাবতে শুরু করা।মানুষ তার বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়।উজাড় বনে তো শেয়ালই রাজাহয়। আপনি কী শেয়াল রাজা হতে চান,নাকি সিংহ রাজাহতে চান,সেটি আগে ঠিক করুন।-বিনীত হতে জানাটা মস্ত বড় একটা আর্ট। যারা অনার্সে পড়ছেন,তাদের অনেকের মধ্যেই এটার অভাব রয়েছে। এখনো আপনার অহংকার করার মত কিছুই নেই,পৃথিবীর কাছে আপনি একজন নোবডি মাত্র।বিনয় ছাড়া শেখা যায় না।গুরুর কাছথেকে শিখতে হয় গুরুর পায়ের কাছে বসে।আজকাল শিক্ষকরাও সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করেননা,স্টুডেন্টরাও সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে।আপনি মেনে নিন,আপনি ছোটো।এটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।বড় মানুষকে অসম্মান করার মধ্যেকোন গৌরব নেই।নিজের প্রয়োজনেই মানুষকে সম্মান করুন।


সুশান্ত পাল

লেখাটি যিনি পাঠিয়েছেন: Asasuz Zaman


সুশান্ত পালের ( সম্মিলিত জাতীয় মেধা তালিকায় ১ম,৩০তম বিসিএস) এই লেখাটি আপনার জীবনকে বদলে দেবে।।-২৭ বছর বয়সে যখন হন্যে হয়ে ব্যাংকে চাকরি খুঁজছেন,তখন আপনারই বয়েসি কেউ একজন সেইব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন।আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি,তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েইচলে যাচ্ছে। কর্পোরেট যে সব সময় চেহারা দেখে প্রমোশন দেয়,তা নয়।দিনবদলাচ্ছে,কনসেপ্টগুলো বদলে যাচ্ছে।শুধুবেতন পাওয়ার জন্য কাজ করে গেলে শুধুবেতনই পাবেন।কথাহল,কেন এমন হয়?সবচাইতে ভালটি সব চাইতে ভালভাবে করে কীভাবে?কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দু-একটি বলছি।-প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা। যারা আপনার চাইতে এগিয়ে,তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী।এটা মেনে নিন। ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না।তা-ই যদি হত,তবে গাধা হত বনের রাজা।শুধু পরিশ্রম করা নয়,এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা।অনলি ইওর রেজাল্টস্ আর রিওয়ার্ডেড,নট ইওরএফর্টস্।আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রামাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে?সবার দিনই তো২৪ ঘণ্টায়।আমার বন্ধুকে দেখেছি,অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সে রাত জেগে আউটসোর্সিংকরে।ও রাত জাগার সুবিধা তো পাবেই!আপনি বাড়তিকী করলেন,সেটাই ঠিক করে দেবে,আপনি বাড়তি কী পাবেন।আপনি ভিন্ন কিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্ন কিছু পাবেন না।বিল গেটস রাতারাতি বিলগেটস হননি।শুধু ভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জব সকিং বা জুকারবার্গ হওয়া যায় না।আমার মত অনার্সে ২.৭৪ সিজিপিএ পেলেই বিসিএস আর আইবিএ ভর্তি পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে যাওয়া যাবে না। আউটলায়ার্স বইটি পড়ে দেখুন।বড় মানুষের বড় প্রস্তুতি থাকে।নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন,উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন।শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হয় না।কিংবা স্কুল কলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না।সবাই তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল ফ্যারাডে হতেপারে না,বেশিরভাগই তো সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।-স্টুডেন্টলাইফে কে কী বলল,সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।আমাদের ব্যাচে যে ছেলেটা প্রোগ্রামিং করতেই পারত না,সে এখন একটা সফটওয়্যার ফার্মের মালিক।যাকে নিয়ে কেউকোনদিন স্বপ্ন দেখেনি,সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ক্যারিয়ার নিয়ে যার তেমন কোন ভাবনা ছিল না,সে সবার আগেপিএইচডি করতে আমেরিকায় গেছে।সব পরীক্ষায় মহাউত্সাহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন,কী পারেন না,এটা অন্য কাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না।পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে? সবাই বলছে,আপনার লাইফটা শেষ?আমি বলি,আরে!আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি।আপনি কতদূর যাবেন,এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে?লাইফটা কি ওদের নাকি?আপনাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন?কিংবা ডাক্তারি পাস করেকেন ডাক্তারিই করতে হবে?আমার পরিচিত এক ডাক্তার ফটোগ্রাফি করে মাসে আয় করে ৬-৭ লাখটাকা।যেখানেই পড়াশোনা করেন না কেন,আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। শুধু'ওহ শিট','সরি বেবি','চ্যাটিং ডেটিং' দিয়ে জীবন চলবে না।আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট,তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন।যে গাড়িটা করে ভার্সিটিতে আসেন,ঘোরাঘুরিকরেন,সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা?ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে?-একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে।তখন আপনাকে যা যা করতে হবে,সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন। জীবনে বড় হতে হলে কিছুভাল বই পড়তে হয়,কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়,কিছু ভাল মিউজিক শুনতে হয়,কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়,কিছু ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়,কিছু ভাল কাজ করতেহয়। জীবনটা শুধু হাহাহিহি করে কাটিয়ে দেয়ার জন্যনয়।একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে,তখন দেখবেন,পায়ের নিচ থেকে মাটিসরে যাচ্ছে,মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়।এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না।"আপনার মত করে লিখতে হলে আমাকে কী করতে হবে?আমি আপনার মত রেজাল্ট করতে চাই। আমাকে কী করতেহবে?"এটা আমি প্রায়ই শুনি।আমি বলি,"অসম্ভব পরিশ্রম করতে হবে।নো শর্টকাটস্।সরি!"রিপ্লাই আসে,"কিন্তু পড়তে যে ভাল লাগে না।কী করা যায়?"এর উত্তরটা একটু ভিন্নভাবে দিই।আপনি যখন স্কুল কলেজে পড়তেন,তখন যেসময়ে আপনার ফার্স্ট বয় বন্ধুটি পড়ার টেবিলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকত,সে সময়ে আপনি গার্লস স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন।এখন সময় এসেছে,ও ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর আপনি পড়ার টেবিলে বসে থাকবেন।-
জীবনটাকে যে সময়ে চাবুক মারতে হয়,সেসময়ে জীবনটাকে উপভোগ করলে,যেসময়ে জীবনটাকে উপভোগ করার কথা,সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেননা,এটাই স্বাভাবিক।

এটা মেনে নিন। মেনে নিতে নাপারলে ঘুরে দাঁড়ান।এখনই সময়! বড় হতে হলে বড়মানুষের সাথে মিশতে হয়,চলতে হয়,ওদের কথা শুনতে হয়। এক্ষেত্রে ভার্সিটিতে পড়ার সময় বন্ধু নির্বাচনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সাবকনশাস মাইন্ড আপনাকে আপনার বন্ধুদের কাজ দ্বারা প্রভাবিতকরে। আমরা নিজেদের অজ্ঞাতসারেই আমাদের চাইতে ইনফেরিয়র লোকজনের সাথে ওঠা বসা করি,কারণ তখন আমরা নিজেদেরকে সুপিরিয়র ভাবতে পারি।এ ব্যাপারটা সুইসাইডাল।আশেপাশে কাউকেই বড় হতে না দেখলে বড়হওয়ার ইচ্ছে জাগে না।আরেকটা ভুল অনেকে করেন।সেটি হল,ধনীঘরের সন্তানদের সাথে মিশেনিজেকে ধনী ভাবতে শুরু করা।মানুষ তার বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়।উজাড় বনে তো শেয়ালই রাজাহয়। আপনি কী শেয়াল রাজা হতে চান,নাকি সিংহ রাজাহতে চান,সেটি আগে ঠিক করুন।-বিনীত হতে জানাটা মস্ত বড় একটা আর্ট। যারা অনার্সে পড়ছেন,তাদের অনেকের মধ্যেই এটার অভাব রয়েছে। এখনো আপনার অহংকার করার মত কিছুই নেই,পৃথিবীর কাছে আপনি একজন নোবডি মাত্র।বিনয় ছাড়া শেখা যায় না।গুরুর কাছথেকে শিখতে হয় গুরুর পায়ের কাছে বসে।আজকাল শিক্ষকরাও সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করেননা,স্টুডেন্টরাও সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে।আপনি মেনে নিন,আপনি ছোটো।এটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।বড় মানুষকে অসম্মান করার মধ্যেকোন গৌরব নেই।নিজের প্রয়োজনেই মানুষকে সম্মান করুন।



fb তে খুঁজতে
সর্বাপেক্ষা সহজ কৌশটি আজ আপনাদের শিখাচ্ছি। দ্রুত তৈরি করুন আপনার পপুলার fb Page.
অনেক বন্ধু আছেন যারা প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাস করেন যে, কিভাবে একটি পপুলার fb Page তৈরি করা যায়? আমি উত্তর বললেও তা বোধগম্য হয় বলে আমার সন্দেহ। তাই ভাবলাম আপনাদের জন্য এ বিষয়ে একটি ডকুমেন্ট লেখি। এক্ষেত্র তারাও উপকৃত হবেন যারা পরবর্তিতে আমাকে একই প্রশ্নটি করবে।
আবারো বলছি...
আগে সম্পূর্ণ বিষয়টি মনোযোগের সহিত পড়ুন এবং ভালোভাবে অনুধাবন করুন...
আপনি যদি একাধিক আই.ডি এর মালিক হয়ে থাকেন তবে সুবিধা আছে। প্রথমে স্থির করুন যে কোন আই.ডি টি আপনি fb Page এ Convert করবেন। সিলেক্ট করা আই.ডি তে Log In করুন।
অতঃপর নিচের লিংকটিতে ক্লিক করুন...
চিত্র-১

>Click...this link
চিত্র-১ এর মত ৩ টি ছবি যুক্ত অপশন দেখাবে। যে কোন একটি সিলেক্ট করে আপনার আই.ডি কে Page Convert করুন।
বিঃদ্রঃ
১) আই.ডি page এ Convert করার পর সেই Page থেকে আবার আই.ডি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ Convert Page আজীবন Page ই থাকবে।
২) আপনার আই.ডি কে Page এ Convert করলে আই.ডি টির সকল পোস্ট ডিলিট(মুছে) যাবে। তাই পোস্ট গুলো Copy করে অন্য আই.ডি তে নিন।
৩) আগে আই.ডি তে 5000(পাঁচ হাজার) Friend করে নিন তার পর Convert করুন। কারন আই.ডি Page এ Convert করলে যত আই.ডি তে সংখ্যক Friend আছে তা ভিউয়ার(Page এর লাইকার) হয়ে যাবে।
৪) Convert এর ক্ষেত্রে অবশ্যই কম্পিউটারে কার্যাবলী সম্পাদন করতে হবে।
৫) কোন রুপ সমস্যা হলে সাথে সাথে জানান। সমাধান করার চেষ্টা করবো। ইনশা আল্লাহ।
চিত্র-২


                    আল্লাহু আকবার

রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৬২ সালে
ভবন সংখ্যাঃ ৮ টি
জমির পরিমানঃ ৯.৮ একর
অন্তর্বিভাগ বন্ধ হয়ঃ ১৯৯৮ সালে
স্থায়িভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ঃ ২০০৭ সালে।

রায়গঞ্জ হাসপাতাল রক্ষা গণকমিটি'র সদস্যবৃন্দঃ

আহ্বায়কঃ আনু ইসলাম
ঠিকানাঃ রতনপুর, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
যোগাযোগঃ ০১৭৬১১১০১৮১

যুগ্ন-আহ্বায়কঃ মিজানুর রহমান
ঠিকানাঃ সাপখাওয়া, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
যোগাযোগঃ ০১৭১৮৮৭৮৬৯৭

যুগ্ন-আহ্বায়কঃ ফজলুল হক
ঠিকানাঃ রঙ্গালীবস, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
যোগাযোগঃ ০১৭৩৭৬১৩৬৮৩
সদস্য সচিবঃ আঃ রহমান লাবু
ঠিকানাঃ রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
যোগাযোগঃ ০১৭৮৬৮০৬৮৬০


রায়গঞ্জ হাসপাতাল রক্ষা গণকমিটি

প্রতিষ্ঠাকালঃ 
১ জুলাই, ২০১৬ সাল।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
পূর্বের ন্যায় রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সচল করার দাবি।


বিশেষ সহযোগিতায়ঃ


সেবক বন্ধু সংগঠন
আন্ধারীঝাড়, ভূঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
প্রতিষ্ঠাতাঃ শেখ জাহিদুল ইসলাম

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ণ গনকমিটি, কুড়িগ্রাম
সভাপতিঃ তাজুল ইসলাম

SABAS(সাবাস)
রতনপুর, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম
সভাপতিঃ বেলাল মাহমুদ

উচ্ছ্বাস সাহিত্য সুহৃদ
সাপখাওয়া, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম
সম্পাদকঃ হাফিজুর রহমান হৃদয়

মায়ের দোয়া বিদ্যাবিথী
মাছুরখামার, টেকনিক্যাল মোড়, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকঃ হাসান আলী সবুজ


আশার আলো পাঠশালা
নাখারগঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানঃ বিশ্বজীৎ বর্মন

যুগান্তর সজন সমাবেশ
নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম
সভাপতিঃ মিজানুর রহমান

সমাজসেবী জনতা সংগঠন
নাখারগঞ্জ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম
সভাপতিঃ আমিনুর ইসলাম


সকলের প্রতি অহ্বান

সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি-


"সকল স্তরের জন সাধারনের প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান আপনারা এ আন্দোলনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায্য দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করুন।"

১৮ আগস্ট/১৬; রোজ- বৃহস্পতিবার। মামাকে দেখার জন্য কুড়িগ্রাম সরকারি কারাগারে গিয়েছিলাম। দেরিতে যাবার কারনে প্রথম সিডিউল মিস্ করি। দীর্ঘ দেড়(১.৫) ঘন্টা অপেক্ষার পর যোহর নামাজের শেষে মামাকে দেখার সৌভাগ্য হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে মামার কাছে জানতে চাইলাম ভিতরের পরিবেশ ও সমস্যার কথা। জবাবে জানতে পেলাম অস্বাভাবিক এক পরিবেশে খাবার এবং থাকবার সমস্যা প্রকট। পরে খাবার কিনে দিতে চাইলে, মামা বলেন বরং টাকা পাঠায় দাও। কথামত টাকা পাঠানোর পর আবারো ইচ্ছা হল মামাকে দেখব। তাই আবারো নাম এন্ট্রি করলাম। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলাম।

কত শত লোকের সমাগম; বন্দি শিবীরের মানুষগুলোকে দেখার জন্য। কেউবা আবেগে উৎফুল্যুতায় চোখের জল গঢ়ায় দিয়ে নিরীহের মত কেবলই মাতম করছে। কেউবা অন্তঃ ক্রন্দনে হৃদয়ের জমিন ভিজায়ে নিচ্ছে। কেউবা জেলখানার খোপ খোপ জানালা দিয়ে অধীর আগ্রহে খুঁজছেন তার আপনজনকে। পরক্ষনে পশ্চিমের ৩য় জানালায় দেখতে পেলাম কারাবন্দি বাবা কথা বলছেন তার(৪-৫) বৎসরের মেয়ের সঙ্গে। মেয়ে বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল- বাবা আমি ট্রেনে ওঠবো। বাবা বললেন- মাবো বাড়ি যাবার সময় ট্রেনে যাবে কেমন। মেয়ে আবার বলল- তুমি কখন যাবে বাবা? বাবা কান্না চাঁপা দিয়ে কৃত্রিম হাস্যমুখে বললেন- আমি রাত্রে যাব মা। অবুঝ শিশু তাই বিশ্বাস করে বাবার নিকট শেষ আব্দার করলো বাবা যাবার সময় আমার জন্য গুড় নিয়ে যাবা। বাবা আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেননা। দুহাতে চোখের জল মুছে কান্নার স্বরে বললেন নিয়ে যাব মা। আমিও পারিনি শিমর হতে, ক্ষতবিক্ষত হয়ে ওঠলো হৃদয়টা। আপনা হতে কয়েক ফোঁটা শীতল চোখের জল নিরবে ঝরে গেল।

তিন জানালার খোপ দিয়ে আবার খুঁজতে লাগলাম মামাকে। কখন আসবে! যেন অধৈর্য্য হয়ে ওঠলাম। কিছুক্ষণ  পরে পূর্বের অর্থাৎ ১ম জানালায় দেখলাম গ্রিলের লৌহদন্ডে দুহাতে ভর করে ঝুলন্ত অবস্থায় কথা বলছেন এক মহিলা। অধীর আগ্রহে ছুঁটে গেলাম সেদিকে। যেতেই বুঝতে পারলাম, কেন মহিলাটি পাখির মত ঝুলে। জন্মগত প্রতিবন্ধকতা। পায়ে ভর করে চলতে পারেনা। তাই ছোট শিশুর মত হাটুতে ভর করে চলেন। বিদায় বেলা লালঘরের গেট থেকে হাত নেড়ে নেড়ে আর চোখের জলে স্বামিকে বিদায় জানাচ্ছেন এবং বলছেন আমি যাচ্ছি তবে আবারো আসবো। তুমি ভালো থাকো। স্ত্রীর চোখের জল সহ্য করতে না পেরে স্বামিটিও কেঁদে ফেললেন। মানুষের প্রতি মানুষের এই প্রেম মহান, যে প্রেম কাঁদাতে জানে। কারণ আমিও চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। হামাগুড়ি দিয়ে চলন্ত মহিলাটিকে জানার আকাঙ্খায় জিজ্ঞাস করলাম- আপনার বাসা কোথায়? কি করে এসেছেন এখানে? মহিলাটি প্রতিত্তরে বললেন বাসা রৌমারী(ফুলয়ার চর); আর ৩০০/= রিজার্ভে নৌকা করে এসেছি। নাম জিজ্ঞেস করতেই বললেন- আমার নাম আমিনা, বাবার নাম আব্দুল আজিজ, স্বামির নাম মাইদুল ইসলাম। পরে জানতে পেলাম তার স্বামি গোপনে ২য় বিয়া করে এবং ২য় পক্ষেরই মামলায় আজ কারাগারে। তাদের(আমিনা ও মাইদুল) বিয়ার বয়ষ ১০ বৎসর। ঘরে একটি চাঁদের মত ছেলে(ছবিতে যে ছেলেটি)। অনেক কষ্ট করে সংসার চলে। সরকার কোন খোঁজ খবর রাখেনা। পঙ্গু ভাতাও পায়না সে। আমি কেবলই নিরবে শুনে গেলাম আর শেষে বললাম যদি কিছু করতে পারি তবে জানাব।

অত:পর  ডিউটিরত কনস্টবল মারফত অবগত হলাম ১ম বার দেখার পর ২য় বার আসামিকে দেখার সুযোগ নেই। অভিজ্ঞতার অভাবে পুরোদিন চলে গেলে মামাকে দেখার অতৃপ্তি থাকলো; তবুও, বাবা-মেয়ের সেই অতুলনীয় স্নেহমাখা ভালবাসা, স্বামি-স্ত্রীর সেই অকৃত্রিম প্রেম দুদন্ড প্রশান্তি দিয়েছে আমাকে। শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে গেল এমন এ ভালোবাসার তরে।

"স্বপ্ন দেখি সুন্দর একটি বিশ্বের"

বাংলার চোখ24
এ আপনাকে আমন্ত্রণ।
সময়ের গতিতে চলমান জনপ্রিয়
অনলাইন পত্রিকাটি সর্বদা সত্য
প্রকাশে নির্ভীক। আপনি আপনার
লেখাঃ- ছড়া/গল্প/কবিতা/বিজ্ঞান অনুচ্ছেদ/কৌতুক/স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস্/জনকল্যানকর মতামত/লেখাপড়া/চাকরি বার্তা/জনপ্রিয় সব গানের কথা/প্রিয় ব্যাক্তিত্ব/ভ্রমণ কাহিনী/জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক খবরা খবর প্রকাশ করতে চাইলে তা পাঠিয়ে দিন নিম্ন ঠিকানায়।
লেখা পাঠানোর ঠিকানা-
anukgc@gmail.com
সর্বস্বত সংগ্রহেঃ আনু ইসলাম;
সম্পাদক- বাংলার চোখ24
"সময়ের গতিতে চলমান"


উল্লেখ্য যে, এই পত্রিকার কোন লেখা
আংশিক বা সম্পূর্ণ হবাহু অন্য কোথাও ছাপানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।

নিষিদ্ধ দেশ কোনটি
প্রশ্ন করলে এক
বাক্যে সবাই বলবে
তিব্বত।কিন্তু এই
নিষিদ্ধের পেছনের
রহস্য অনেকেরই
অজানা। শত শত বছর
ধরে হিমালয়ের উত্তর
অংশে দাঁড়িয়ে আছে
তিব্বত নামের এই
রহস্যময় রাজ্যটি।
তিব্বতে যে কী আছে
সে ব্যাপারে সবার মনে
রয়েছে জিজ্ঞাসা।
হিমালয়ের উত্তরে
অবস্থিত ছোট একটি
দেশ তিব্বত। ১৯১২
খ্রিস্টাব্দে ত্রয়োদশ
দালাইলামা কর্তৃক
প্রতিষ্ঠিত গণচীনের
একটি সশাসিত
অঞ্চল তিব্বত। মধ্য
এশিয়ায় অবস্থিত এই
অঞ্চলটি তিব্বতীয়
জনগোষ্ঠীর
আবাসস্থল। এই
অঞ্চলটি চীনের অংশ
হলেও এখানকার
অনেক তিব্বতি এই
অঞ্চলকে চীনের
অংশ মানতে নারাজ।
১৯৫৯ সালে গণচীনের
বিরুদ্ধে তিব্বতিরা
স্বাধিকার আন্দোলন
করলে সেটি ব্যর্থ
হয়। তখন দালাইলামার
নেতৃত্বে অসংখ্য
তিব্বতি ভারত
সরকারের আশ্রয়
গ্রহণপূর্বক হিমাচল
প্রদেশের ধর্মশালায়
বসবাস শুরু করেন।
সেখানে স্বাধীন
তিব্বতের নির্বাসিত
সরকার প্রতিষ্ঠিত
হয়।
তিব্বতের রহস্য
অজানার পেছনে এর
প্রকৃতি ও দুর্গম
পরিবেশ অনেক
ক্ষেত্রে দায়ী।
রাজধানী লাসা থেকে
মাত্র ১০০
কিলোমিটার দূরে
অবস্থিত গোবি
মরুভূমি। মরুভূমির
নিষ্ঠুর ও কষ্টদায়ক
পরিবেশ এসব এলাকার
মানুষকে কাছে আনতে
নিরুৎসাহিত করে।
তিব্বতের বেশিরভাগ
ভূ-ভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ
থেকে ১৬০০০ ফুটেরও
ওপরে অবস্থিত
হওয়ায় সেখানে বসবাস
করা পৃথিবীর অন্যান্য
স্থানের চেয়ে একটু
বেশি কষ্টকর। এই
অঞ্চলগুলো এতই উঁচু
যে, একে পৃথিবীর ছাদ
বলা হয়ে থাকে।
তিব্বতের স্থলভাগ
বছরের প্রায় আট মাস
তুষারে ঢেকে থাকে।
সেই প্রাচীনকাল
থেকেই তিব্বতকে
ঘিরে প্রচলিত রয়েছে
অনেক রহস্য।
তিব্বতের রাজধানী
লাসা বিশ্বব্যাপী
নিষিদ্ধ নগরী হিসেবে
পরিচিত ছিল অনেক
আগে থেকেই। লাসায়
বহির্বিশ্বের কোনো
লোকের প্রবেশাধিকার
ছিল না। দেশটি
পৃথিবীর অন্য সব
অঞ্চল থেকে
একেবারেই বিচ্ছিন্ন
ছিল। তিব্বত বা
লাসায় বাইরের বিশ্ব
থেকে কারও প্রবেশ
করার আইন না থাকায়
এই অঞ্চলটি
দীর্ঘদিন ধরে সবার
কাছে একটি রহস্যময়
জগৎ হিসেবে পরিচিত
ছিল। কী আছে
লাসায়, সেটা দেখার
জন্য উদগ্রীব হয়ে
থাকত সমগ্র বিশ্ব।
লাসার জনগোষ্ঠী,
শহর, বন্দর,
অট্টালিকা সব কিছুই
ছিল সবার কাছে
একটি রহস্যঘেরা
বিষয়। লাসা নগরীতে
ছিল বিখ্যাত পোতালা
নামক একটি প্রাসাদ।
এই প্রাসাদটি
প্রথমবারের মতো
বহির্বিশ্বের
মানুষেরা দেখতে পায়
১৯০৪ সালে।
আমেরিকার বিখ্যাত
ন্যাশনাল
জিওগ্রাফিক
পত্রিকায় এই বিখ্যাত
অট্টালিকার ছবি
ছাপা হয়। তিব্বতের
চতুর্দিকে
বিচ্ছিন্নভাবে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে
অসংখ্য পাহাড় ও গুহা।
সেই পাহাড়ি গুহাগুলোতে
বাস করে বৌদ্ধ
পুরোহিত লামারা।
তিব্বতিরা অত্যান্ত
ধর্মভীরু । তাদের
মধ্যে ধর্ম একটি
গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল
করে আছে। তাদের
প্রধান ধর্মগুরুর নাম
দালাইলামা। বৌদ্ধ
সন্ন্যাসীরা তিব্বতে
লামা নামে পরিচিত।
লামা শব্দের অর্থ
সর্বপ্রধান, আর
দালাই শব্দের অর্থ
জ্ঞান সমুদ্র। অর্থাৎ
দালাইলামা শব্দের
অর্থ হচ্ছে জ্ঞান
সমুদ্রের সর্বপ্রধান।
ধর্মগুরু বা দালাইলামা
বাস করে সোনার চূড়া
দেওয়া পোতালা
প্রাসাদে। ১৩৯১ সালে
প্রথম দালাইলামার
আবির্ভাব ঘটে।
দালাইলামাকে
তিব্বতিরা বুদ্ধের
অবতার মনে করে
থাকে। তিব্বতিদের
বিশ্বাস, যখনই কেউ
দালাইলামার পদে
অভিষিক্ত হয় তখনই
ভগবান বুদ্ধের আত্মা
তার মধ্যে আবির্ভূত
হয়। এক দালাইলামার
মৃত্যুর পর নতুন
দালাইলামার নির্বাচন
হয়। দালাইলামা
নির্বাচনের
পদ্ধতিটাও বেশ
রহস্যময় এবং
রোমাঞ্চকর।
তিব্বতিদের
দালাইলামা বা নেতা
নির্বাচনের পদ্ধতিটি
খুবই বিচিত্র।
তিব্বতি প্রথা মতে
কারও মৃত্যুর সঙ্গে
সঙ্গেই তার মরদেহের
সৎকার করা হয় না।
তাদের দৃঢ় বিশ্বাস,
মৃত্যুর পরও আত্মা
জাগতিক পরিমণ্ডলে
বিচরণ করে। আর
যতক্ষণ পর্যন্ত
আত্মা জাগতিক
পরিমণ্ডল ত্যাগ না
করে ততক্ষণ পর্যন্ত
তারা মরদেহটি তাদের
বাড়িতে রেখে দেয়।
কোনো লামার মৃত্যু হলে
লাসার পূর্বে লহামপূর্ণ
সরোবরের তীরে
লামারা ধ্যান করতে
বসে। ধ্যানযোগে
লামারা দেখতে পায়
সেই সরোবরে স্বচ্ছ
পানির ওপর ভেসে
উঠছে একটি গুহার
প্রতিবিম্ব। যে গুহার
পাশে আছে একটি
ছোট্ট বাড়ি। প্রধান
লামা তার সেই
অলৌকিক
অভিজ্ঞতার মাধ্যমে
এঁকে দেবে নতুন
দালাইলামার ছবি। বড়
বড় লামারা সেই ছবির
তাৎপর্য নিয়ে
আলোচনা করে। তারপর
কয়েকজন লামা ছোট
ছোট দলে বিভক্ত হয়ে
তিব্বতের বিভিন্ন
স্থানে যায় শিশু
অবতারের খোঁজে। তারা
তিব্বতের ঘরে ঘরে
গিয়ে সেই ছবির হুবহু
শিশুটি খুঁজে বের
করার চেষ্টা করে।
আর এভাবেই তারা
খুঁজে বের করে তাদের
নতুন দালাইলামাকে।
তিব্বতের লামারাসহ
সাধারণ মানুষেরাও
প্রেতাত্মাকে খুবই ভয়
পায়। তারা সর্বদা
প্রেতাত্মার ভয়ে
আড়ষ্ট থাকে।
অধিকাংশ তিব্বতির
ধারণা, মানুষের মৃত্যুর
পর দেহের ভেতর থেকে
প্রেতাত্মারা মুক্ত
হয়ে বাইরে বেরিয়ে
আসে। ওই প্রেতাত্মার
লাশ সৎকার হওয়ার
আগ পর্যন্ত সে
মানুষের ক্ষতি করার
জন্য ঘুরে বেড়ায়। তারা
কখনও মানুষের ওপর
ভর করে, কখনও পশু-
পাখি কিংবা কোনো গাছ
অথবা পাথরের ওপরও
ভর করে।
প্রেতাত্মাদের হাত
থেকে বাঁচতে ও
প্রেতাত্মাদের খুশি
রাখতে তিব্বতিরা
পূজা করে থাকে।
তিব্বতে সরকারি
ভাষা হিসেবে চীনা
ভাষার প্রচলন
থাকলেও তিব্বতিদের
ভাষার রয়েছে
সুপ্রাচীন ইতিহাস।
তাই চীনের বেশ কিছু
প্রদেশ এবং ভারত,
পাকিস্তান, নেপাল ও
ভুটানে তিব্বতি
ভাষাভাষী মানুষ
রয়েছে।
তিব্বতিদের সবচেয়ে
ব্যতিক্রমী আচার
হলো মৃতদেহের সৎকার।
এদের মৃতদেহ সৎকার
পদ্ধতি খুবই অদ্ভুত।
কোনো তিব্বতি যদি
মারা যায়, তবে ওই
মৃতদেহ কাউকে ছুঁতে
দেওয়া হয় না। ঘরের
এক কোণে মৃতদেহটি
বসিয়ে চাদর অথবা
পরিষ্কার কাপড় দিয়ে
ঢেকে রাখা হয়।
মৃতদেহের ঠিক পাশেই
জ্বালিয়ে রাখা হয়
পাঁচটি প্রদীপ। তারপর
পুরোহিত পোবো লামাকে
ডাকা হয়। পোবো লামা
একাই ঘরে ঢোকে এবং
ঘরের দরজা-জানালা
সব বন্ধ করে দেয়।
এরপর পোবো মন্ত্র পড়ে
শরীর থেকে আত্মাকে
বের করার চেষ্টা
করে। প্রথমে মৃতদেহের
মাথা থেকে তিন-চার
গোছা চুল টেনে ওপরে
আনে। তারপর পাথরের
ছুরি দিয়ে মৃতদেহের
কপালের খানিকটা
কেটে প্রেতাত্মা বের
করার রাস্তা করে
দেওয়া হয়। শবদেহকে
নিয়ে রাখে একটা বড়
পাথরের টুকরোর ওপর।
ঘাতক একটি মন্ত্র
পড়তে পড়তে মৃতদেহের
শরীরে বেশ কয়েকটি
দাগ কাটে। দাগ কাটার
পর একটি ধারালো
অস্ত্র দিয়ে সেই দাগ
ধরে ধরে মৃতদেহকে
টুকরো টুকরো করে
কেটে ফেলা হয়।
তারপর পশুপাখি দিয়ে
খাওয়ানো হয়।
তিব্বতেরসামাজিক
অবস্থার কথা বলতে
গেলে বলতে হয় এমন
এক সমাজের কথা, যা
গড়ে উঠেছিল আজ
থেকে প্রায় ছয় হাজার
বছর আগে। তখন পীত
নদীর উপত্যকায়
চীনারা জোয়ার ফলাতে
শুরু করে। অন্যদিকে
আরেকটি দল রয়ে যায়
যাযাবর। তাদের মধ্য
থেকেই তিব্বতি ও
বর্মী সমাজের সূচনা
হয়।
খাবার- দাবারের ও
রয়েছে যথেষ্ট
ভিন্নতা । শুনলে
অবাক হবেন উকুন
তিব্বতিদের অতি
প্রিয় খাবার।
ঐতিহ্যগত তিব্বতি
সমাজের এক
গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ
যাযাবর বা রাখাল
জীবনযাপন। ভেড়া,
ছাগল ও ঘোড়া পালন
তাদের প্রধান
জীবিকা। শুধু চীনের
তিব্বত স্বশাসিত
অঞ্চলের মোট
জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ
এই যাযাবর রাখাল
সম্প্রদায়। এরা কখনও
চাষাবাদের কাজ করে
না। মোট ভূমির ৬৯
শতাংশ এলাকা চারণ বা
তৃণভূমি। চীনা
ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল
রেখে তিব্বতিরাও
ভীষণ চা প্রিয়। তাদের
বিশেষ চায়ে মেশানো
হয় মাখন এবং লবণ।
তবে তিব্বতিদের
প্রধান খাবার হলো
চমবা। গম এবং যবকে
ভেজে পিষে চমবা
তৈরি করা হয়। তারা
খাবার পাত্র হিসেবে
ব্যবহার করে কাঠের
পেয়ালাকে। আধুনিক
বিশ্ব দিন দিন
আধুনিক হলেও আজও
তিব্বত বিশ্বে
রহস্যময় একটি
অঞ্চল।